ইফতারের সময়, যে সকল খাদ্য আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর এবং ক্ষতিকর জেনে নিন ।

 প্রতিদিন আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা রোজা রাখার পর মানুষ ইফতারে অনেক কিছুরই আয়োজন করে থাকে । ইফতারে পরিবেশিত খাদ্য গুলোর মধ্যে অনেক খাদ্য তাদের অজান্তেই তাদের শরীরে  অনেক ক্ষতি‌ হয়ে  থাকে ।

আজকের ব্লকে আমাদের ইফতারে কি কি খাওয়া উচিত এবং কি কি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করা হবে । চলুন শুরু করা যাক আজকের ব্লগ......


ইফতারে যেসব খাদ্য খাওয়া উচিত-

লেবু ও পানির শরবত:
লেবু ও পানির শরবত প্রতিদিনের রোজার পানির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে । লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি । যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । মানবদেহে পিএইচ মান ঠিক রাখতে লেবুর রস ও লেবুর শরবত এর ভূমিকা অতুলনীয় । প্রতিদিন ইফতারের সময় লেবুর শরবত খেলে তার শরীরের অনেক উপকার করে থাকে ।

বিভিন্ন ফল মূল:
একেক রকমের ফুলে রয়েছে একেক রকমের ভিটামিন ও মিনারেলের সমৃদ্ধি । তাই ইফতারের সময় খাওয়া উচিত বিভিন্ন ধরনের ফল । যেমন পেয়ারা,আনারস,আম,জাম,কাঁঠাল,আপেল,কমলা ইত্যাদি ।

বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজির সালাদ:
কাঁচা সবজির সালাদে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যায় তা সবারই জানা । রমজান মাসে শসা টমেটো খেলার মত সবজি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় বলে তার সহজলভ্যতাও । তাই প্রতিদিন ইফতারে সালাদ খাওয়া খুবই প্রয়োজন ।


খেজুর:
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর ইফতারে প্রতিদিন খেজুর থাকতোই । খেজুর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল । তাই অল্প কয়েকটা খেজুর দিয়ে ইফতার করলেও শরীরের অনেক ভিটামিন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব ।

টক দই:
টক দই পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে । ইফতারের খুদা কারণে অনেকে বেশি খাবার খেয়ে ফেলে । তাদের উচিত ইফতার করার পর টক দই খাওয়া । তাতে তাদের পেট পরিষ্কার থাকবে এবং বদহজম জনিত কোন সমস্যা দেখা দিবে না ।

ইফতারের যে সকল খাদ্য গ্রহণ করা উচিত নয়:

ইফতারের সময় যে সকল খাদ্য আমাদের শরীরের ক্ষতি করতে পারে বা যে সকল খাদ্য আমাদের গ্রহণ করা উচিত নয় তা নিচে বর্ণনা করা হলো-

বিভিন্ন ধরনের চপ:
চপ রোজাদারিদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে । চপ ডোবা তেলে ভাজা হয় বলে রোজা রাখার পর চপ খেলে যে কাউরো এসিডিটির সমস্যা শরিলে বেড়ে যায় । তাই ইফতারে চপ জাতীয় খাদ্য অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো ।

অতিরিক্ত আইসক্রিম বা মিষ্টি দই:
ইফতারে  অতিরিক্ত আইসক্রিম মিষ্টি দই খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয় । এতে শরীরে ঠান্ডা লেগে ঠান্ডাজনিত নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে । তাই ইফতারে আইসক্রিম বা মিষ্টি দই কম করে খাওয়াই উত্তম।

ডোবা তেলে ভাজা খাবার:
অতিরিক্ত ডোবা তেলে ভাজা খাবার অ্যাসিডিটির মাত্রা এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । তাই যত বেশি সম্ভব ডোবা তেলে খাবার ইফতারের সময় বর্জন করা উচিত ।

সাদা চিনি:
শরীরের ফ্যাট বাড়িয়ে তোলার জন্য সাদা চিনি দায়ী ।
বলা হয়ে থাকে যে ব্যক্তি সাদা চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং প্রতিদিন লেবু ও পানির রস দিনে দুইবার খাবে তার কোনদিন ক্যান্সার হতে পারে না । তাছাড়া সাদা চিনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর ।



রোজার মাসে অসুস্থ না হতে চাইলে এবং গোটা মাস সাওম পালন করতে হলে । আমাদের অবশ্যই আমাদের শরীরের যত্ন নেওয়া উচিত এবং খাদ্য সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত । 
ধন্যবাদ ।।।